• শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জামাত ও ইসকনসহ

সকল ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ হোক

জামাত ও ইসকনসহ

সকল ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ হোক

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ঘিরে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের এবং ভারতের রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণির বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নগ্নভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই ভারতের গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালায়। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে-হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে তা কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। হিন্দু-আওয়ামী নেতাদের উপর যেমন আক্রমণ হয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আক্রমণ ছিল মুসলিম নেতাদের উপর। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের উপর এ আক্রমণকে ভারত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বলে দেখাতে চাচ্ছে ও হিন্দু নির্যাতন বলে অপপ্রচার করছে। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য সমাবেশেরও হুমকি দেয়। অথচ হাসিনার শাসনামলের ১৫ বছরে অনেক বেশি হিন্দু নির্যাতন হয়েছে। তখন ভারত এ নিয়ে তেমন উচ্য-বাচ্য করেনি।

বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের সংগঠন রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত তাদের সভা-সমাবেশ করছে এবং নিপীড়ন-নির্যাতন হলে তার প্রতিবাদ করছে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই হঠাৎ করে হিন্দু জাগরণসহ একাধিক সংগঠন ও জোট আবির্ভূত হয়। এবং তার মুখপাত্র হয় জনৈক হিন্দুত্ববাদী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) বহিষ্কৃত নেতা (সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে)। যদিও বাংলাদেশের ইসকন দাবি করছে তার কাজের সাথে ইসকনের কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু তার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশ্নে ইসকন কোনো মন্তব্য করেনি। তার মুক্তির দাবিও করেছে। 

চিন্ময়ের নতুন সংগঠনটি যে ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছে সেগুলোর কিছু অংশ ন্যায্য হলেও সামগ্রিকভাবে তাদের দাবিগুলো হলো ধর্মবাদী দাবি। দেশে ইসলামী ধর্মবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মতো এরাও হিন্দুত্ববাদী ধর্মবাদী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে। বিশেষত তাদের তৎপরতা ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের ইন্ধনে ও মদদে পরিচালিত দেশ-বিরোধী তৎপরতা হিসেবে প্রকাশিত হয়ে গেছে। ইসকন যে সামাজিক বা ধর্মীয় ভক্তি আন্দোলনের কথা বলে থাকে তার আড়ালে তাদের এ রাজনৈতিক চরিত্র গোপন থাকেনি। ফলে তা প্রত্যক্ষভাবে পতিত হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এই চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হলে ভারত এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে ভারত এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের মদদেই উপরোক্ত হিন্দু সংগঠনগুলো রাতারাতি গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রাঙ্গনে চিন্ময় অনুসারীরা নৃশংস হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে। ভারত সরকার চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে এবং হিন্দুত্ববাদী বিজেপি বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেরাও করার হুমকিও দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের রোগীদের ডাক্তার দেখাতে অস্বীকার করেছে। মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে হিন্দুদের রক্ষায় জাতিসংঘ বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। এসবে প্রমাণ হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ভারত ও হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা সরাসরি জড়িত। 

ভারত এবং এইসব হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশের হিন্দু-স্বার্থের কথা বললেও কার্যত হিন্দুদের উপর ইসলামী ধর্মবাদীদের আক্রমণের খড়গ নামিয়ে আনার ষড়যন্ত্রকেই শর্ত দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের ঘোলাপানিতে নিজেদের আধিপত্য, ক্ষমতা পুনপ্রতিষ্ঠায় হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করছে। তাই বাংলাদেশের হিন্দু জনগণকে ভারত ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজেদের ন্যায়সঙ্গত দাবি নিয়ে সংগ্রাম করতে হবে। 

বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মবাদীরা ও কথিত বৈষম্যবিরোধীরা শুধু ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তুলছে। তারা জামাতসহ ইসলামী ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিষিদ্ধের দাবি না করে বরং তাদেরকেই সুযোগ করে দিচ্ছে। রাজনীতিকে তারা মুসলিম ধর্মবাদী ও হিন্দু ধর্মবাদী হিসেবে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এটা দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘু জনগণের জীবন-জমি-সম্পদ-ইজ্জতকে বিপদের মুখে ফেলবে। একইসাথে তা ভারতের মুসলমান জনগণকে হিন্দুত্ববাদী আক্রমণের মুখে ফেলবে।

তাই, হিন্দুসহ সকল জনগণের দায়িত্ব হবে এ ধরনের বিবিধ ধরনের ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতিকে বিরোধিতা করা এবং একটি ধর্ম-বিযুক্ত গণতান্ত্রিক সংবিধান ও রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংগ্রাম করা।

জামাত ও ইসকনসহ

সকল ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ হোক

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ঘিরে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের এবং ভারতের রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণির বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নগ্নভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই ভারতের গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালায়। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে-হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে তা কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। হিন্দু-আওয়ামী নেতাদের উপর যেমন আক্রমণ হয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আক্রমণ ছিল মুসলিম নেতাদের উপর। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের উপর এ আক্রমণকে ভারত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বলে দেখাতে চাচ্ছে ও হিন্দু নির্যাতন বলে অপপ্রচার করছে। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য সমাবেশেরও হুমকি দেয়। অথচ হাসিনার শাসনামলের ১৫ বছরে অনেক বেশি হিন্দু নির্যাতন হয়েছে। তখন ভারত এ নিয়ে তেমন উচ্য-বাচ্য করেনি।

বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের সংগঠন রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত তাদের সভা-সমাবেশ করছে এবং নিপীড়ন-নির্যাতন হলে তার প্রতিবাদ করছে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই হঠাৎ করে হিন্দু জাগরণসহ একাধিক সংগঠন ও জোট আবির্ভূত হয়। এবং তার মুখপাত্র হয় জনৈক হিন্দুত্ববাদী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) বহিষ্কৃত নেতা (সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে)। যদিও বাংলাদেশের ইসকন দাবি করছে তার কাজের সাথে ইসকনের কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু তার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশ্নে ইসকন কোনো মন্তব্য করেনি। তার মুক্তির দাবিও করেছে। 

চিন্ময়ের নতুন সংগঠনটি যে ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছে সেগুলোর কিছু অংশ ন্যায্য হলেও সামগ্রিকভাবে তাদের দাবিগুলো হলো ধর্মবাদী দাবি। দেশে ইসলামী ধর্মবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মতো এরাও হিন্দুত্ববাদী ধর্মবাদী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে। বিশেষত তাদের তৎপরতা ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের ইন্ধনে ও মদদে পরিচালিত দেশ-বিরোধী তৎপরতা হিসেবে প্রকাশিত হয়ে গেছে। ইসকন যে সামাজিক বা ধর্মীয় ভক্তি আন্দোলনের কথা বলে থাকে তার আড়ালে তাদের এ রাজনৈতিক চরিত্র গোপন থাকেনি। ফলে তা প্রত্যক্ষভাবে পতিত হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এই চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হলে ভারত এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে ভারত এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের মদদেই উপরোক্ত হিন্দু সংগঠনগুলো রাতারাতি গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রাঙ্গনে চিন্ময় অনুসারীরা নৃশংস হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে। ভারত সরকার চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে এবং হিন্দুত্ববাদী বিজেপি বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেরাও করার হুমকিও দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের রোগীদের ডাক্তার দেখাতে অস্বীকার করেছে। মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে হিন্দুদের রক্ষায় জাতিসংঘ বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। এসবে প্রমাণ হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ভারত ও হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা সরাসরি জড়িত। 

ভারত এবং এইসব হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশের হিন্দু-স্বার্থের কথা বললেও কার্যত হিন্দুদের উপর ইসলামী ধর্মবাদীদের আক্রমণের খড়গ নামিয়ে আনার ষড়যন্ত্রকেই শর্ত দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের ঘোলাপানিতে নিজেদের আধিপত্য, ক্ষমতা পুনপ্রতিষ্ঠায় হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করছে। তাই বাংলাদেশের হিন্দু জনগণকে ভারত ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজেদের ন্যায়সঙ্গত দাবি নিয়ে সংগ্রাম করতে হবে। 

বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মবাদীরা ও কথিত বৈষম্যবিরোধীরা শুধু ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তুলছে। তারা জামাতসহ ইসলামী ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিষিদ্ধের দাবি না করে বরং তাদেরকেই সুযোগ করে দিচ্ছে। রাজনীতিকে তারা মুসলিম ধর্মবাদী ও হিন্দু ধর্মবাদী হিসেবে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এটা দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘু জনগণের জীবন-জমি-সম্পদ-ইজ্জতকে বিপদের মুখে ফেলবে। একইসাথে তা ভারতের মুসলমান জনগণকে হিন্দুত্ববাদী আক্রমণের মুখে ফেলবে।

তাই, হিন্দুসহ সকল জনগণের দায়িত্ব হবে এ ধরনের বিবিধ ধরনের ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতিকে বিরোধিতা করা এবং একটি ধর্ম-বিযুক্ত গণতান্ত্রিক সংবিধান ও রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংগ্রাম করা।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র